The MiR

HOME / SINGLE POST

BLOG POST

শাহজালাল বিমানবন্দরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

শাহজালাল বিমানবন্দরে আগুন কারণ প্রভাব

শাহজালাল বিমানবন্দরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড : ভয়াবহ আগুনে কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি ও নিরাপত্তা ত্রুটি উন্মোচিত


শাহজালাল বিমানবন্দরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

অগ্নিকাণ্ডের সময় ও স্থান

গত শনিবার (১৮ অক্টোবর ২০২৫) দুপুর আড়াইটার দিকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ কমপ্লেক্সে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি স্টেশনের ৩৭টি ইউনিট প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা ধরে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।
এ ঘটনায় বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় এবং একাধিক ফ্লাইট বিকল্প রুটে পাঠানো হয়।

আগুনের সম্ভাব্য কারণ

শর্ট সার্কিট থেকে সূত্রপাত:

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বিদ্যুৎ সংযোগের ত্রুটি বা শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত ঘটে থাকতে পারে।

 দাহ্য পদার্থের ভূমিকা:

কার্গো ভিলেজে থাকা দাহ্য পদার্থ, পোশাকের কাপড়, ইলেকট্রনিক পণ্য ও প্যাকেজিং উপকরণ আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় সহায়ক ভূমিকা রাখে।
ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল বলেন,“খোলা জায়গা ও প্রবল বাতাস আগুন ছড়িয়ে পড়তে বড় ভূমিকা রাখে।”

মানবিক ক্ষয়ক্ষতি ও উদ্ধার কার্যক্রম

এই ঘটনায় মোট ৩৫ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে ২৫ জন আনসার সদস্য।
তাদের দ্রুত সিএমএইচ ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
প্রায় ১,০০০ আনসার সদস্যসহ সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও বিজিবি আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি ও ব্যবসায়িক প্রভাব

কার্গো ভিলেজে থাকা শত শত পণ্য—বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পের আমদানি করা কাপড় ও কাঁচামাল—পুরোপুরি পুড়ে যায়।
বাণিজ্যিকভাবে এটি বড় ধরনের ক্ষতির ঘটনা, বিশেষ করে পোশাক রপ্তানিকারকদের জন্য।

আরএমকে গ্রুপের এমডি কামরুজ্জামান ইবনে আমিন সোহাইল বলেন,  আমদানিকারকদের কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে—এটি দেশের ব্যবসায়িকভাবে একটি বড় ধাক্কা।

বিমান চলাচলে প্রভাব

অগ্নিকাণ্ডের পর বিমানবন্দরের সব ধরনের ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ রাখা হয়।
প্রায় ছয় ঘণ্টা পর রাত ৯টার দিকে বিমান চলাচল পুনরায় শুরু হয়।
এ সময় কয়েকটি ফ্লাইট বিকল্পভাবে চট্টগ্রাম, সিলেট, নেপাল, করাচি ও কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

বাংলাদেশ বিমানের কুয়েতগামী একটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়, তবে যাত্রীরা নিরাপদে নামিয়ে আনা হয়।

রেসকিউ ও আগুন নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম

ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং বিজিবি একযোগে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।
আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লাগে প্রায় ৭ ঘণ্টা।
খোপ খোপ জায়গায় আগুন ছড়িয়ে পড়ায় কাজ জটিল হয়ে পড়ে এবং আগুন নেভাতে গিয়ে অনেক পণ্য ও লাগেজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তদন্ত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (CAAB) ও বাংলাদেশ বিমান ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

তদন্তের মূল লক্ষ্য:
  • আগুন লাগার সঠিক কারণ নির্ণয়

  • ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ

  • কোনো গাফিলতি ছিল কি না তা চিহ্নিত করা

  • ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণ

ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ব্যবস্থা

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে:

  • বৈদ্যুতিক সংযোগ ও সরঞ্জামের নিরাপত্তা জোরদার করা

  • আধুনিক ফায়ার অ্যালার্ম ও স্মার্ট সিসিটিভি স্থাপন

  • নিয়মিত ফায়ার ড্রিল ও জরুরি প্রশিক্ষণ চালু করা

  • কর্মীদের অগ্নি-নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা

সরকার ও জনমতের প্রতিক্রিয়া

অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়,“নাশকতা বা অগ্নিসংযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দায়ীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

শাহজালাল বিমানবন্দরের অগ্নিকাণ্ড কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়; এটি আমাদের অব্যবস্থাপনা ও দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতিফলন।
দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রমের কারণে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেলেও ভবিষ্যতের জন্য এটি একটি গুরুতর সতর্কবার্তা। See More

Subscribe to Newsletter

Never miss any important news. Subscribe to our newsletter.